অবলোক

এআই ব্যবহার: ৩.৬ ঘণ্টা সময় বাঁচানো কাজ সংশোধন করতে যাচ্ছে ৩.৪ ঘণ্টা

পড়তে ৬ মিনিট
এআই ব্যবহার: ৩.৬ ঘণ্টা সময় বাঁচানো কাজ সংশোধন করতে যাচ্ছে ৩.৪ ঘণ্টা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) কর্মীরা প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৩ দশমিক ৬ ঘণ্টা সময় বাঁচাচ্ছেন। তবে এআইয়ের নিম্নমানের তৈরি কাজ সংশোধন, পরিষ্কার করা বা নতুন করে লেখার পেছনেই তারা গড়ে ৩ দশমিক ৪ ঘণ্টা ব্যয় করছেন। ফলে এআই ব্যবহারে পাওয়া সময় সাশ্রয়ের প্রায় পুরো সুবিধাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) কর্মীরা প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৩ দশমিক ৬ ঘণ্টা সময় বাঁচাচ্ছেন। তবে এআইয়ের নিম্নমানের তৈরি কাজ সংশোধন, পরিষ্কার করা বা নতুন করে লেখার পেছনেই তারা গড়ে ৩ দশমিক ৪ ঘণ্টা ব্যয় করছেন। ফলে এআই ব্যবহারে পাওয়া সময় সাশ্রয়ের প্রায় পুরো সুবিধাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

ওয়ার্কডের ‘Beyond Productivity: Measuring the Real Value of AI in the UAE’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু সময় সাশ্রয়ের দিক থেকে নয়, বরং এআইয়ের সামগ্রিক প্রভাব কীভাবে পরিমাপ করছে, তা নিয়েও গবেষণাটি করা হয়েছে।

গবেষণা অনুযায়ী, ইউএইর ৯০ শতাংশ কর্মী সপ্তাহে অন্তত একবার এআই ব্যবহার করেন। তাদের মধ্যে ৫৮ শতাংশ সপ্তাহে একাধিকবার এবং ১৮ শতাংশ প্রতিদিন কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করেন। পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তা ও শীর্ষ নির্বাহীদের অর্ধেকেরও বেশি প্রতি সপ্তাহে এআই ব্যবহার করেন।

তবে এআই ব্যবহারের হার বাড়লেও কর্মীদের মানবিক তদারকির প্রয়োজনীয়তা রয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো এআই দিয়ে তৈরি কাজ পর্যালোচনা ও সংশোধনের জন্য এখনও কর্মীদের ওপর নির্ভর করছে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এআই ব্যবহারে পাওয়া দক্ষতা ও সাশ্রয়কে ইউএইর প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু খরচ কমানোর কাজে ব্যবহার করছে না। প্রায় ৩৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান কর্মীসংখ্যা না বাড়িয়ে বেশি কাজের চাপ সামলাতে এই সাশ্রয় কাজে লাগাচ্ছে।

আরও ৩২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান সাশ্রয় হওয়া সময় ও অর্থ কর্মীদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনরায় দক্ষ করে তোলার কাজে ব্যয় করছে। একইভাবে, ৩২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা কাজের চাপ ব্যবস্থাপনা, কর্মক্ষেত্রে নমনীয়তা ও কর্মীদের কল্যাণে বিনিয়োগ করছে। অন্যদিকে, ২৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তারা মূলত খরচ কমানোর জন্য এই সাশ্রয় ব্যবহার করছে।

মাত্র ০ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, এআই থেকে তারা উল্লেখযোগ্য সময় বা খরচ সাশ্রয় করতে পারেননি।

ওয়ার্কডের মধ্যপ্রাচ্য, তুরস্ক ও আফ্রিকা অঞ্চলের গ্রুপ ভাইস প্রেসিডেন্ট জাকারিয়া হালতুত বলেন, পরিসংখ্যানগুলো দেখাচ্ছে, ইউএইর প্রতিষ্ঠানগুলো এআই নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে দৈনন্দিন ব্যবহারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সুফল নির্ভর করে আস্থা, মানবিক তদারকি এবং দক্ষতায় ধারাবাহিক বিনিয়োগের ওপর।

পরিসংখ্যানগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, নিয়োগদাতাদের জন্য পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হয়তো কর্মীদের এআই ব্যবহারে উৎসাহিত করা নয়। কারণ, ইতিমধ্যে ১০ জনে ৯ জন কর্মী প্রতি সপ্তাহে এআই ব্যবহার করছেন। বরং এআইয়ের তৈরি কাজ পরীক্ষা ও সংশোধনে যে সময় ব্যয় হচ্ছে, তা কমানোই হতে পারে পরবর্তী চ্যালেঞ্জ।

গবেষণাটি প্রকাশের সময়ই ইউএইতে কার্যক্রম শুরু করেছে ওয়ার্কডে। এর অংশ হিসেবে দুবাইয়ে নতুন অফিস, আঞ্চলিক কার্যক্রম এবং স্থানীয় নেতৃত্বের পরিধি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, ইউএইতে তাদের কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হবে মানবসম্পদ, অর্থ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ওয়ার্কডের প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তা করা।

ওয়ার্কডের ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা (ইএমইএ) অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট অ্যাঞ্জেলিক দে ভ্রিস-শিপারাইন বলেন, ইউএইর প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায়িক রূপান্তরের দিকে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে বিশেষ করে বড় ও নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফলাফল দেখানো এবং আস্থা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।