অবলোক

অফিসে টানা বসে কাজ, যেভাবে বাড়ে কিডনির ঝুঁকি

পড়তে ৫ মিনিট
অফিসে টানা বসে কাজ, যেভাবে বাড়ে কিডনির ঝুঁকি

সকাল থেকে অফিসে বসে কাজ। মাঝে অল্প সময়ের বিরতি, তারপর আবার কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা। অফিস শেষ হলেও বাড়ি ফিরে মোবাইল, টেলিভিশন কিংবা ল্যাপটপের সামনে কেটে যায় আরও কয়েক ঘণ্টা। ব্যস্ত জীবনে এমন রুটিন এখন অনেকেরই। কিন্তু দিনের বেশিরভাগ সময় যদি এভাবেই বসে কাটে এবং শরীরচর্চা বা হাঁটাচলা প্রায় না থাকে, তাহলে তার প্রভাব শুধু কোমর বা ওজনেই পড়ে না,পরোক্ষভাবে কিডনির স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

সকাল থেকে অফিসে বসে কাজ। মাঝে অল্প সময়ের বিরতি, তারপর আবার কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা। অফিস শেষ হলেও বাড়ি ফিরে মোবাইল, টেলিভিশন কিংবা ল্যাপটপের সামনে কেটে যায় আরও কয়েক ঘণ্টা। ব্যস্ত জীবনে এমন রুটিন এখন অনেকেরই। কিন্তু দিনের বেশিরভাগ সময় যদি এভাবেই বসে কাটে এবং শরীরচর্চা বা হাঁটাচলা প্রায় না থাকে, তাহলে তার প্রভাব শুধু কোমর বা ওজনেই পড়ে না,পরোক্ষভাবে কিডনির স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

যেভাবে বাড়ে কিডনির ঝুঁকি
দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে শরীরের শক্তি খরচ কমে যায়। এর সঙ্গে নিয়মিত হাঁটাচলা বা ব্যায়ামের অভ্যাস না থাকলে ধীরে ধীরে ওজন বাড়তে পারে। অতিরিক্ত ওজনের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের সমস্যার ঝুঁকিও বাড়ে।

আর কিডনির সুস্থতার ক্ষেত্রে রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কিডনির সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একইভাবে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস কিডনির রক্ত ছেঁকে বর্জ্য বের করে দেওয়ার

গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোতে ক্ষতি করতে পারে। ফলে সময়ের সঙ্গে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

সমস্যা বুঝবেন কীভাবে?
কিডনির রোগ হলে শুরুতে অনেক সময় স্পষ্ট কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে শরীরে পরিবর্তন শুরু হলেও অনেকে তা বুঝতে পারেন না। যখন সমস্যা গুরুতর হয়ে ওঠে, তখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়।

তাই যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত ওজন, কিডনির রোগের পারিবারিক ইতিহাস কিংবা অন্য কোনো ঝুঁকি রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।

অফিসে বসে কাজ করলে যা করবেন
যাদের কাজের ধরনই এমন যে দীর্ঘসময় বসে থাকতে হয়, তাদের পক্ষে পুরো সময় হাঁটাহাঁটি করা সম্ভব নয়। তবে ছোট ছোট পরিবর্তন করা যায়। দীর্ঘসময় একটানা বসে না থেকে কিছুক্ষণ পরপর চেয়ার থেকে উঠে কয়েক মিনিট হাঁটুন। ফোনে কথা বলার সময় সম্ভব হলে দাঁড়িয়ে বা হেঁটে কথা বলতে পারেন।

লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা, কাছাকাছি জায়গায় গেলে গাড়ির পরিবর্তে হেঁটে যাওয়া এবং দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হাঁটাচলা বাড়ানোর অভ্যাস করতে হবে।

শুধু অফিসে নয়, কাজের পরের সময়টাও গুরুত্বপূর্ণ। সারাদিন অফিসে বসে থাকার পর বাড়ি ফিরে যদি সোফা বা বিছানায় বসেই পুরো সময় কাটে, তাহলে শরীরের নিষ্ক্রিয়তা আরও বেড়ে যায়। তাই প্রতিদিনের রুটিনে নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি যতটা সম্ভব স্বাভাবিক হাঁটাচলা রাখুন।

কিডনি ভালো রাখতে শুধু একটি অভ্যাসের ওপর নির্ভর করলে হবে না। স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত শারীরিক সক্রিয়তা, রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা-সব মিলিয়েই তৈরি হয় কিডনির জন্য স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন।

সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস