সকালে ঘুম থেকে উঠেই কপাল আর নাকের পাশে তেলের আস্তরণ! রোদে বের হলে মুখ আরও তেলতেলে হয়ে যায়। এর সঙ্গে ব্রণ, ছোট ছোট ফুস্কুড়ি কিংবা র্যাশের সমস্যা থাকলে অস্বস্তি যেন আরও বেড়ে যায়।
তৈলাক্ত ত্বকের এমন ঝামেলা নিয়ে অনেকেই চিন্তায় থাকেন। কেউ ব্যবহার করেন নানা প্রসাধনী, কেউ আবার ভরসা রাখেন ঘরে থাকা উপাদানে। তবে ত্বকের যত্ন নিতে সব সময় দামি পণ্যের প্রয়োজন হয় না। ঘরে থাকা মধু, গ্রিন টি, শসা ও অ্যালোভেরা দিয়েও নিতে পারেন ত্বকের পরিচর্যা। জেনে নিন, কীভাবে ব্যবহার করবেন এসব উপাদান।
অলিভ অয়েল ও মধু
রূপচর্চায় মধু ও অলিভ অয়েলের ব্যবহার বেশ পরিচিত। ত্বকের যত্নে এই দুই উপাদান অনেকেই ব্যবহার করেন। তবে তৈলাক্ত ও ব্রণপ্রবণ ত্বকে অলিভ অয়েল সবার জন্য উপযোগী নাও হতে পারে। তাই মুখে লাগানোর আগে সতর্ক থাকা ভালো।
ঘরোয়া পরিচর্যার জন্য একটি পরিষ্কার পাত্রে ১ চামচ মধুও ১ চামচ অলিভ তেলের নিন। এবার মাইক্রোওয়েভে সেই মিশ্রণটি ১০ সেকেন্ডের জন্য গরম করুন। চা এরপর ত্বকের ছোট একটি অংশে লাগিয়ে দেখুন। এই মিশ্রণটি ব্রাশ দিয়ে বা হাত দিয়েই সারা মুখে ভাল করে লাগিয়ে নিন। ১০ মিনিট রেখে ঈষদুষ্ণ পানিতে মুখ ধুয়ে নিন। নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো করে মুখ মুছে নিন।
গ্রিন টি ও মধু
সকালে ঘুম থেকে উঠে গ্রিন টি খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে অনেকেরই। চাইলে এই পানীয় দিয়েও নিতে পারেন ত্বকের পরিচর্যা। এ জন্য ২ টেবিল চামচ গ্রিন টি আলাদা করে একটি পাত্রে রাখুন। চা পুরোপুরি ঠান্ডা হলে তাতে কয়েক ফোঁটা মধু মিশিয়ে নিন। এবার তুলার সাহায্যে মিশ্রণটি মুখে আলতো করে লাগিয়ে রাখুন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। চোখের চারপাশে লাগাবেন না। প্রথমবার ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নিন। সপ্তাহে দুদিন ব্যবহার করতে চাইলে ত্বকের প্রতিক্রিয়া খেয়াল করুন। তবে এই প্যাক ব্যবহার করলেই ব্রণ কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
শসা ও অ্যালোভেরা
ত্বকের পরিচর্যায় শসা ও অ্যালোভেরা বেশ জনপ্রিয়। শসার রস ত্বকে সতেজ অনুভূতি দিতে পারে। অ্যালোভেরা জেলও ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই ঘরোয়া রূপচর্চায় অনেকেই এই দুটি উপাদান ব্যবহার করেন।
এজন্য ১ চা চামচ অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে ২ টেবিল চামচ শসার রস মিশিয়ে নিন। পরিষ্কার মুখে মিশ্রণটি আলতো করে লাগান। ১০ থেকে ১২ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। চাইলে সপ্তাহে ১ বা ২ দিন ব্যবহার করতে পারেন। অ্যালোভেরা জেলে সুগন্ধি বা অন্য উপাদান মেশানো থাকলে তা এড়িয়ে চলুন। ত্বকে চুলকানি, লালচে ভাব কিংবা জ্বালাপোড়া হলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে যা মনে রাখবেন
তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ ও র্যাশের সমস্যা থাকলে বারবার মুখ ধোয়া কিংবা একসঙ্গে অনেক ধরনের প্যাক ব্যবহার করা ঠিক নয়। দিনে দুবার মৃদু ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। ত্বকের উপযোগী ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। ব্রণ খোঁটাখুঁটি করবেন না। র্যাশ ছড়িয়ে পড়লে, ব্যথা বা পুঁজ হলে কিংবা দীর্ঘদিন ব্রণ না কমলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
সূত্র:এনডিটিভি, ভোগ







