অবলোক

সোলার প্যানেল কেনার আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

পড়তে ৫ মিনিট
সোলার প্যানেল কেনার আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

লোডশেডিং ও বিদ্যুতের খরচ কমাতে অনেকেই বাড়িতে সোলার প্যানেল বসানোর কথা ভাবছেন। কিন্তু বাজারে ৪০০, ৫৫০, ৬০০ ওয়াট বা তারও বেশি ক্ষমতার নানা ধরনের প্যানেল পাওয়া যায়। ফলে শুধু বেশি ওয়াটের প্যানেল দেখেই সেটি কিনে ফেললে হবে না। বাড়িতে কত বিদ্যুৎ লাগে, দিনে কতক্ষণ ব্যবহার হয় এবং কী ধরনের যন্ত্র চালানো হবে এসব হিসাব করেই সোলার সিস্টেম বেছে নিতে হবে।

লোডশেডিং ও বিদ্যুতের খরচ কমাতে অনেকেই বাড়িতে সোলার প্যানেল বসানোর কথা ভাবছেন। কিন্তু বাজারে ৪০০, ৫৫০, ৬০০ ওয়াট বা তারও বেশি ক্ষমতার নানা ধরনের প্যানেল পাওয়া যায়। ফলে শুধু বেশি ওয়াটের প্যানেল দেখেই সেটি কিনে ফেললে হবে না। বাড়িতে কত বিদ্যুৎ লাগে, দিনে কতক্ষণ ব্যবহার হয় এবং কী ধরনের যন্ত্র চালানো হবে এসব হিসাব করেই সোলার সিস্টেম বেছে নিতে হবে।

প্রথমে হিসাব করুন দৈনিক বিদ্যুৎ চাহিদা
আপনার বাড়িতে দিনে মোট কত ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়, সেটিই সোলার সিস্টেম বাছাইয়ের প্রথম ধাপ। মাসিক বিদ্যুৎ বিল দেখে আনুমানিক হিসাব করা যায়। ধরুন, মাসে ৩০০ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হলে দৈনিক গড় ব্যবহার প্রায় ১০ ইউনিট।

তবে শুধু মাসিক ইউনিট জানলেই পুরো হিসাব শেষ নয়। ফ্রিজ, ফ্যান, টিভি, লাইট, কম্পিউটার, পানির পাম্প বা এসি কোন যন্ত্র কতক্ষণ চলে, সেটিও হিসাব করা ভালো। কারণ একই পরিমাণ ইউনিট ব্যবহার হলেও ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী সোলার সিস্টেমের প্রয়োজন আলাদা হতে পারে।

কত ওয়াটের প্যানেল লাগবে?
প্যানেলের ক্ষমতা নির্ভর করবে আপনার প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ এবং আপনার এলাকার সূর্যের আলো পাওয়ার ওপর। বাংলাদেশে ভালো রোদ পাওয়া গেলে একটি সোলার প্যানেল দিনে তার রেটেড ক্ষমতার কয়েক ঘণ্টা সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। তবে আবহাওয়া, ছায়া, প্যানেলের অবস্থান, তাপমাত্রা ও সিস্টেমের ক্ষতির কারণে বাস্তব উৎপাদন কম হতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে, ৫৫০ ওয়াটের কয়েকটি প্যানেল দিয়ে একটি সিস্টেম তৈরি করা যায়। কিন্তু কতটি প্যানেল লাগবে, তা নির্ধারণ করতে দৈনিক বিদ্যুৎ চাহিদার পাশাপাশি স্থানীয় সূর্যালোকের হিসাব করতে হবে। তাই শুধু ‘কত ওয়াটের প্যানেল’ নয়, পুরো সিস্টেমের মোট উৎপাদন ক্ষমতা দেখা জরুরি।

ব্যাটারি লাগবে কি?
এখানেও প্রয়োজন বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদি দিনের বেলায়ই মূলত সোলার বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন এবং গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ থাকে, তাহলে অন-গ্রিড সিস্টেম বিবেচনা করা যায়। এতে সাধারণত বড় ব্যাটারি ব্যবস্থার প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে বিদ্যুৎ চলে গেলেও রাতে ফ্যান, লাইট, রাউটার বা অন্য যন্ত্র চালাতে চাইলে ব্যাটারিসহ অফ-গ্রিড বা হাইব্রিড সিস্টেম প্রয়োজন হতে পারে। তখন শুধু প্যানেল নয়, ব্যাটারির ক্ষমতাও হিসাব করতে হবে।

ইনভার্টারও গুরুত্বপূর্ণ
সোলার প্যানেল কিনে ভালো ইনভার্টার না নিলে পুরো সিস্টেমের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। ইনভার্টারের ক্ষমতা নির্ধারণের সময় একই সময়ে কোন কোন যন্ত্র চলবে, সেই মোট লোড হিসাব করতে হয়। ফ্রিজ, পাম্প বা এসির মতো যন্ত্রের স্টার্টিং লোডও বিবেচনায় রাখা দরকার।

জায়গা ও ছায়ার বিষয়টি ভুলবেন না
ছাদের কতটুকু জায়গা পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে দিনের বিভিন্ন সময়ে ছায়া পড়ে কি না এবং প্যানেল কোন দিকে ও কী কোণে বসানো যাবে এসবও গুরুত্বপূর্ণ। ছাদে পর্যাপ্ত জায়গা থাকলেও আশপাশের ভবন, গাছ বা পানির ট্যাংকের ছায়া পড়লে উৎপাদন কমে যেতে পারে।

তাই বাড়ির জন্য সোলার প্যানেল বাছাইয়ের সময় শুধু প্যানেলের দাম বা ওয়াট দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। দৈনিক বিদ্যুৎ চাহিদা, প্যানেলের মোট ক্ষমতা, ইনভার্টার, ব্যাটারি, ছাদের জায়গা এবং ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিকল্পনা সবকিছু মিলিয়ে সিস্টেম নির্বাচন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।